Kharagpur

Kharagpur: তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদীপের প্রস্তাবে খড়্গপুর পুরসভায় লাগানো হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ জুলাই: তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভায় অবশেষে লাগানো হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। শনিবার বিকেলে খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এই প্রস্তাব দেন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার। খড়্গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ঋতব্রত-তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকারের এই প্রস্তাবে প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপির কাউন্সিলাররা। পরে অবশ্য সামলে নিয়ে সকলেই এই প্রস্তাবে সহমত পোষণ করেন। শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ প্রদীপের দাবি, ‘এর আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো ছিল। তাহলে এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাতে অসুবিধা কোথায়! আমরা বিরোধী দলের কাউন্সিলর হলেও মুখ্যমন্ত্রী তো সবার। তাছাড়াও তিনি আমাদের মেদিনীপুরের সন্তান। আমরা সকলেই গর্বিত তাঁর জন্য!’

এবার খড়্গপুর পুরসভায় লাগানো হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি:

উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে নিজের রুমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি লাগিয়েছিলেন চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ। খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কল্যাণী ঘোষের সুসম্পর্ক রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রীর পরামর্শেই পুরসভা পরিচালনার কথা জানিয়েছিলেন কল্যাণী দেবী। ‘বিতর্ক’ এড়াতেই তাই তিনি এতদিন শুভেন্দু অধিকারীর ছবি লাগান নি বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, শুভেন্দু বাবুর ছবি লাগালে পুরসভার দিলীপ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলাররা ‘বিকল্প’ প্রস্তাব দিতে পারেন বলেও অনুমান করেছিলেন কল্যাণী দেবী। তাই দু’জনের মধ্যে কার ছবি লাগাবেন, নাকি দু’জনের ছবিই লাগাবেন, এই প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়েই মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিলেন তিনি। তবে, শনিবার বোর্ড মিটিং শেষে কল্যাণীদেবী বলেন, ‘বোর্ড মিটিংয়ে এই প্রস্তাব এসেছে। বেশিরভাগ কাউন্সিলার সমর্থনও করেছনে। তাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাব বলে ঠিক করেছি।’ দিলীপবাবুর ছবিও কি লাগানো হবে? কল্যাণীদেবী বলেন, ‘এতদিন শুধু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবিই ছিল। বাকিটা আমরা সকলে মিলে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।’

জেলার রাজনীতিতে একসময় শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন প্রদীপ সরকার। শুভেন্দুবাবুর নেতৃত্বেই ২০১৯ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। দিলীপবাবুর সঙ্গেও অবশ্য ‘বন্ধুত্বের’ সম্পর্ক রয়েছে প্রদীপের। এবারের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও দিলীপবাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন প্রদীপ। এদিন প্রদীপ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সাথে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপবাবুর ছবিও থাকতে পারে, কোন অসুবিধা নেই। মনীষী হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবিও থাকতে পারে। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাতেই হবে। এতদিন কেন লাগানো হয়নি, সেটাই বিস্ময়ের।’ বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি কাউন্সিলাররা বলেন, ‘রাজ্যের বেশিরভাগ পুরসভাতেই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগানো হয়েছে। এখানেও এবার লাগানো হবে।’

News Desk

Recent Posts

Kharagpur: নেপথ্যে কে? পুরভোটের আগে খড়্গপুর পুরসভায় প্রদীপের নেতৃত্বে ‘অনাস্থা’ ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ৯ সেপ্টেম্বর: পুরভোটের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তার আগেই…

17 hours ago

IIT Kharagpur: আইআইটি খড়্গপুরের মেধাবী ছাত্রের রহস্য-মৃত্যু! ২০ মাসে হারিয়ে গেল ১০টি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১৩ আগস্ট: মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে ফের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা খড়্গপুর…

4 weeks ago

Medinipur: পিংলার দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সবেরাতি এবং কেশপুরের যুব নেতা আসিফ ইকবাল গ্রেপ্তার, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পরই অ্যাকশন শুরু পুলিশের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ আগস্ট: মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনীতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।…

4 weeks ago

Midnapore: জমি-জালিয়াতির তদন্তে শালবনীতে সিআইডি আধিকারিকরা, সুমিতের বিরুদ্ধে আরও ‘তথ্য’ পেতে সুজয়কে জেরা?

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ আগস্ট: জমি-দুর্নীতি মামলার তদন্তে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে সিআইডি…

1 month ago

Midnapore: মেদিনীপুর পুরসভায় কয়েকশ কোটি টাকার দুর্নীতি? প্রায় এক হাজার বিল্ডিং প্ল্যানের অবৈধ অনুমোদনে মামলা দায়ের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ আগস্ট: মেদিনীপুর পুর এলাকায় প্রায় এক হাজার বিল্ডিং…

1 month ago

Medinipur: মোবাইলে এসেছিল ‘হাই এলার্ট’ মেসেজ, আশঙ্কা সত্যি করেই পশ্চিম মেদিনীপুরে বাজে মৃত্যু ৪ জনের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ আগস্ট: বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দাদের…

1 month ago