দেহ উদ্ধার:
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ জুলাই: প্রেম পরিণতি পায়নি। সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে খড়্গপুরে এসে প্রেমিকার সঙ্গে বিষপান! বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৃত প্রেমিকার দেহ উদ্ধার হয় খড়্গপুর শহরের গোলবাজার এলাকার একটি হোটেল থেকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রেমিক চিকিৎসাধীন খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে। ঘটনা ঘিরে শোরগোল রেল শহর খড়্গপুরে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত প্রেমিকা শুভাঙ্গী মাহেশ্বরী (৩১) খড়্গপুরের একটি কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তবে, কর্মসূত্রে থাকতনে খড়্গপুর শহরে ওই স্কুলেরই আবাসনে। মাত্র ৮ মাস (২০২৫ সালের নভেম্বরে) আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল উত্তরপ্রদেশেরই এক যুবকের সাথে। মাধব শর্মা নামে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ওই যুবক মাঝেমধ্যেই স্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসতেন খড়্গপুরে। গত কয়েকদিন ধরে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে খড়্গপুরের আবাসনেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ওই যুবক তাঁর স্ত্রীকে (শুভাঙ্গীকে) ফোন করলে, ফোন বন্ধ বলে। এরপরই তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, স্কুলের টিফিন চলাকালীন শুভাঙ্গী দেবী জরুরি কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। এরপরই খড়্গপুর টাউন থানায় যোগাযোগ করেন শিক্ষিকার স্বামী। খড়্গপুর টাউন থানার অধীন হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ শিক্ষিকার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, ফোন বন্ধ থাকায় সঠিক লোকেশন মেলেনি। তবে, সর্বশেষ লোকেশন গোলবাজার দেখিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুভাঙ্গী দেবীর খোঁজে গোলবাজার এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ। শেষমেশ এলাকাবাসী এবং ব্যবসায়ীদের শুভাঙ্গী দেবীর ছবি দেখিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ মেলে সাফল্য!
পুলিশ পৌঁছয় গোলবাজারের ওই হোটেলে (লজে)। হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানান, এদিন সকালে আমের আলি নামে এক যুবক একতলার একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। পরে দুপুর নাগাদ সেখানে পৌঁছান ওই শিক্ষিকা। কিন্তু, বিকেল নাগাদ রুমের তালা লাগিয়ে তাঁরা চলে যান। তা সত্ত্বেও পুলিশ আধিকারিকরা চাবি নিয়ে রুম খোলেন। আর তারপরই দেখেন বিছানার উপর শুভাঙ্গী দেবীর নিথরদেহ! দ্রুত খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে দেহ পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আমের আলি এবং শুভাঙ্গী দেবী একসঙ্গেই বিষপান করেছিলেন। কিন্তু, প্রেমিকাকে চোখের সামনে এভাবে কষ্ট পেতে দেখতে পারবেন না বলে তিনি রুমের তালা লাগিয়ে বেরিয়ে যান। হোটেল কর্তৃপক্ষ তা টের পায়নি। এরপর হোটেলে থেকে কিছু দূরে রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকেন আমের আলি। স্থানীয়রাই তাঁকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আমের আলি ও শুভাঙ্গী মাহেশ্বরীর প্রেম পরিণতি পায়নি। এর পিছনে সামাজিক কারণও থাকতে পারে। তবে, দু’জনের যোগাযোগ ছিল। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সম্প্রতি আমেরের বিয়ের কথা চলছিল বাড়িতে। আর তারপরই এই পরিণতি! তবে, আরও বিস্তারিত তদন্তের জন্য পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আজ, শনিবার খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হবে শুভাঙ্গীদেবীর। ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন শিক্ষিকার স্বামী সহ পরিবারের সদস্যরা।
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগেই গ্রেপ্তার করা হল…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ জুলাই: তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভায় অবশেষে লাগানো হবে…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১৭ জুলাই: বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে এসে বাড়ি…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৫ জুলাই: এবার নজরদারির আওতায় পুলিশও। খড়্গপুর টাউন থানার…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৫ জুলাই: জীবনানন্দের বনলতা সেনে কবি-প্রেমিকের প্রশ্ন ছিল, 'এতদিন…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ জুন: নিম্ন উপত্যকার তুলনায় তাপমাত্রা বেশি জম্মু ও…