দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১৩ আগস্ট: মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে ফের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা খড়্গপুর আইআইটিতে। অধ্যাপকের মৃত্যুর পর এবার মৃত্যু হল এক পড়ুয়ার। বৃহস্পতিবার বিকেলে আইআইটির নালন্দা কমপ্লেক্সের তিন তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ১৯ বছরের অঙ্কিত শর্মার। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানের অন্দরে। আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের বাসিন্দা অঙ্কিত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি থাকতেন আইআইটির গোখলে হলে। এদিন নালন্দা কমপ্লেক্সে ক্লাস করতে গিয়েছিলেন অঙ্কিত। বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ ওই কমপ্লেক্সের তিন তলার ব্যালকনি থেকে পড়ে যান তিনি। দ্রুত উদ্ধার করে তাঁকে আইআইটির বি.সি. রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

thebengalpost.net
আইআইটি খড়্গপুর:

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশারা বানো এবং এসডিপিও সিদ্ধার্থ ঢাঙ্গি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। ওই ব্যালকনিতে লোহার রেলিং থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অঙ্কিত পড়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও ঘটনা। পুলিশ ও আইআইটি সূত্রে খবর, এদিন দুপুর পর্যন্ত অঙ্কিতকে একেবারেই স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। ক্লাসে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরের খাবারও খান তিনি। আইআইটির জনসংযোগ আধিকারিক প্রতীক দামা জানান, অঙ্কিত অত্যন্ত মেধাবী ও হাসিখুশি ছাত্র ছিলেন। তাঁর কথায়, সকাল থেকে ক্লাস, খাওয়া এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—সবই স্বাভাবিক ছিল। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কোনও সমস্যা ছিল বলে জানা যায়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, অঙ্কিতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছনোর পর শুক্রবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই আইআইটির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক দীপক রেড্ডি পুল্লাগুরাম (৩৫)-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার আগে ২৮ এপ্রিল মদনমোহন মালব্য হল থেকে চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া সোহম হালদার (২২)-এর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। গত ১৮ এপ্রিল একটি হলের নিচ থেকে তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া জয়বীর সিং দোডিয়ার দেহ উদ্ধার হয়। সব মিলিয়ে গত ২০ মাসে খড়্গপুর আইআইটিতে ১০ জন পড়ুয়া এবং এক অধ্যাপকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পরপর এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের একাংশ।

thebengalpost.net
অঙ্কিত শর্মা: