দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ জুন: নিম্ন উপত্যকার তুলনায় তাপমাত্রা বেশি জম্মু ও কাশ্মীরের উঁচু স্থানগুলিতে। আর সেই তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তুলনামূলক ভাবে ‘শীতল’ আবহাওয়া অর্থাৎ তাপমাত্রা কম নিম্ন উপত্যকায়। এর ফলে উত্তরোত্তর বরফ গলার পরিমাণ বাড়ছে হিমালয় পর্বতমালায়। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে আইআইটি খড়্গপুরের বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে পরিবশবিদদের। সম্প্রতি, প্রতিষ্ঠানের সমুদ্র, নদী, বায়ুমণ্ডল ও ভূমি বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভাগ ‘কোরাল’ (সেন্টার ফর ওসান, রিভার, অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্সের)-এর বরিষ্ঠ অধ্যাপক জয়নরায়ণ কুট্টিপ্পুরাথের নেতৃত্বে একদল গবেষক তথা বিজ্ঞানী এই গবেষণা করেন। তাঁদের এই গবেষণা বিখ্যাত আন্তর্জাতিক পত্রিকা নেচারে স্থানও পেয়েছে। মূলত, জম্মু ও কাশ্মীরের গত ৪৪ বছরের (১৯৮০-২০২৪) তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান আইআইটির গবেষকরা। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সর্বোপরি, এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে চলেছে, তাও জানিয়েছেন গবেষক তথা বিজ্ঞানীরা।
খড়্গপুর আইআইটির বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে, গত দুই দশকে জম্মুর তুলনায় গুলমার্গ ও পহেলগামে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও, ভৌগলিক নিয়মে জম্মুর তাপমাত্রাই বেশি হওয়ার কথা। এই ঘটনার ব্যখ্যা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা মূলত তিনটি কারণ তুলে ধরেন। পর্বতের শীর্ষদেশের বরফ গলে যাওয়ার ফলে মাটি ও পাথর উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে। আর এই মাটি ও পাথর তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম। এর ফলে বরফ আরও বেশি পরিমাণে গলছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জলীয় বাষ্প সহ গ্রিন হাউস গ্যাসের উপস্থিতি বাড়ছে। এই জলীয় বাষ্প তাপমাত্রা গ্রহণ করে। এছাড়াও, পাহাড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলে রাতের দিকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তুলনায় নিম্ন উপত্যকায় শুষ্ক শীতল বাতাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, বিশ্ব উষ্ণায়ন, পরিবেশ দূষণের মতো অন্যান্য বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক জয়নরায়ণ কুট্টিপ্পুরাথ। তিনি এও বলেন, এর ফলে পর্বতের শীর্ষদেশের বরফ-গলন যেমন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক তেমনই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিমাণও বাড়ছে। সর্বোপরি, হিমালয় পর্বতমালা তথা পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রও ধ্বংস হচ্ছে।








