দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ জুলাই: ফিরল দেড় বছর আগের স্মৃতি। ফের স্যালাইন-কাণ্ড মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। এবার মেয়াদ উত্তীর্ণ (এক্সপায়ারড) স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ উঠল ষাটোর্ধ্ব এক রোগিনীকে। তাঁর নাম মানসী দে। এই মুহূর্তে ওই রোগিনী হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনায় তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাসপাতালের সুপার সহ প্রশাসনের কাছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপার ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে প্রসূতিদের ভেজাল স্যালাইন বা নিষিদ্ধ রিঙ্গার্স ল্যাক্টেড স্যালাইন দেওয়ার ঘটনায় দুই প্রসূতি ও এক সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়। সেই ঘটানার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সদ্য বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সাসপেনশন তুলে নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। আর এই আবহেই ফের মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইন কাণ্ড তথা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা মানসী দে গত ৫ জুলাই হার্ট, কিডনির সমস্যা সহ একাধিক গুরুতর অসুস্থতার কারণে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। বুধবার হঠাৎই তিনি বুকে প্রদাহ অনুভব করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, রোগিনীকে যে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে, তা মেয়াদ-উত্তীর্ণ বা এক্সপায়ারড। বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। মানসী দেবীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে বলেন, গুরুতর অসুস্থতার কারণে মা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার সকালে আমরা দেখি তাঁকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অভিযোগ জানাচ্ছি। সুপার ইন্দ্রনীল সেন বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। মনে হচ্ছে, পুরনো স্টক থেকে কোনভাবে এই স্যালাইন মিশে গিয়েছিল। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূল আমলে এভাবেই স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। তারই খেসারত দিতে হচ্ছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে।








