দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ জুন: সপ্তাহের প্রথম দিনই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য খড়্গপুরে। মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহর সংলগ্ন কাঁসাই (কংসাবতী) নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল খড়্গপুরের তিন কিশোর। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে খড়্গপুর থেকে ছয় কিশোর এসেছিল কাঁসাই নদীতে স্নান করতে। তাদের মধ্যে তিন কিশোর জলে নামে। তিন জন অবশ্য নদীর পাড়ে বসেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঁসাইয়ের গভীর জলে তলিয়ে যায় ওই তিন কিশোর। চিৎকার শুরু করে পাড়ে বসে থাকা তিন কিশোর। স্থানীয়রা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশও। এরপর নৌকো নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। সকাল দশটা নাগাদ খড়্গপুর গ্রামীণের মাতকাতপুর এলাকায়, নদী থেকে তাদের দেহ উদ্ধার হয়। দ্রুত খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশের তরফে দেহ পাঠানো হয় খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

thebengalpost.net
অ্যানিকেত বাঁধে:

জানা গিয়েছে, মৃত তিন কিশোরের মধ্যে জেনিথ আচার্যে (১৮) বাড়ি ২৮নং ওয়ার্ডের ছোট ট্যাংরা এলাকায়, নিখিল আচার্যের (১৬) বাড়ি ২৮নং ওয়ার্ডের তালঝুলি এলাকায় এবং সেলেব ড্যানিয়েল ব্যাঙ্গোর (১৪) বাড়ি খড়্গপুর শহরের ২৯নং ওয়ার্ডের ঝুলি এলাকায়। ঘটনা ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খড়্গপুরের প্রবীণ বাম নেতা অনিল দাস বলেন, ‘খড়্গপুরের ইতিহাসে এমন দুঃখজনক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। তিন কিশোর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ত। টিউশন পড়তে বেরিয়ে কাঁসাই নদীতে চলে যায়। তারপরই এই ঘটনা। হাহাকার করছেন পরিবারের লোকজন। আমি বাকরুদ্ধ! প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব, পরিবারের পাশে থাকার জন্য।’ খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। আমরা পরিবারের পাশে আছি।’