দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ জুলাই: তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর আবহেই সামনে এল ঠিক পাঁচ মাস আগের আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি। গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ঘটে যাওয়া সেই বীভৎস অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ২৭ জন শ্রমিকের। তবে, অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ মাস পরেও ‘নিখোঁজ’ পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার অনুপ প্রধান। পুলিশ-প্রশাসনের তরফে এখনও ‘মৃত্যু’ নিশ্চিত করা হয়নি পিংলার মালিগেড়িয়া গ্রামের যুবক অনুপের। দুর্ঘটনার পাঁচ মাস পরেও ছেলের মৃতদেহ বা দেহাংশ পায়নি পরিবার। ফলে ডেথ সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়নি। এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অনুপবাবুর স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যরা। বিগত সরকারের আমলে বারবার পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোন লাভ হয়নি বলে জানান অনুপবাবুর বাবা নিমাই প্রধান, মা অঞ্জলি প্রধান। অসহায় ওই পরিবার তাই রাজ্যের নতুন সরকারের উপরই আস্থা রাখতে চাইছে।

thebengalpost.net
অসহায় পরিবার:

সোমবার ‘নিখোঁজ’ যুবকের পরিবারের সদস্যরা কলকাতার নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে কিছু শুকনো আশ্বাস মিললেও, পুলিশ আধিকারিকরা সঠিক দিশা দেখা দেখাতে পারেননি বলেই দাবি অনুপবাবুর শ্যালক শান্তনু হাজরা থেকে দিদি প্রিয়াঙ্কা প্রধানের। এরপরই তাঁরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয় ছুটে যান। মুখ্যমন্ত্রীর দেখা মেলেনি। একপ্রকার হতাশা নিয়েই পিংলার বাড়িতে ফিরে আসেন অনুপবাবুর আত্মীয়রা। মঙ্গলবার মালিগেড়িয়ার বাড়িতে কাঁদতে কাঁদতে অনুপবাবুর বাবা নিমাই প্রধান ও মা অঞ্জলি প্রধান বলেন, ‘হয় আমাদের ছেলেকে খুঁজে দিন, নাহলে তার মৃতদেহ (বা, দেহাংশ) তুলে দিন।’ অনুপের দিদি প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, ‘ভাইয়ের স্ত্রী আর শিশু সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে? চিরদিন কি ভাই নিখোঁজ হয়েই থাকবে!’ শ্যালক শান্তনু হাজরার অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক কারণেই এতদিন গড়িমসি করেছে আগের সরকার। সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ব্যবহার করেছেন এলাকার তৎকালীন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।’ তাঁর সংযোজন, ‘আশা করছি নতুন সরকার এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করবে।’

প্রসঙ্গত, পিংলার মালিগেড়িয়া গ্রামের তিন যুবক অনুপ প্রধান, বিশ্বজিৎ সাউ ও কৃষ্ণেন্দু ধাড়া ফুলের কাজ করতে গিয়েছিলেন নাজিরবাদে। গভীর রাতের অগ্নিকাণ্ডের পর তিন বন্ধুই ‘নিখোঁজ’ ছিলেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষার পর বিশ্বজিৎ ও কৃষ্ণেন্দুর দেহাংশ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। কিন্তু, তাঁদের বন্ধু অনুপের মৃত্যু এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। প্রশাসনের দাবি, অনুপের বাবার নমুনার সাথে ডিএনএ মেলেনি। যদিও অনুপের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক কারণেই এতদিন গড়িমসি করেছে পুলিশ। অনুপের আত্মীয় শান্তনু বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বিজেপির সমর্থক। তাই তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রী মানসবাবু কোন গুরুত্ব দেননি। উল্টে দুর্ব্যবহার করেছেন।’ এলাকাবাসীদের দাবি, একটা পরিবার যে আজ পাঁচ মাস ধরে চরম অসহায়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তাতে কারুরই হেলদোল নেই! বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি তথা বিধায়ক প্রতিনিধি অমূল্য মাইতি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব এবং মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব।’

thebengalpost.net
স্বামীর ছবি হাতে সুপ্রিয়া প্রধান: