দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ২২ জুন: রবিবার দুপুরে ‘ফিল্মি কায়দায়’ গুলি চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রেল শহর খড়্গপুরে। ঘটনার তদন্তে নেমে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দু’জন আবার ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। অপরজন খড়্গপুরের। সোমবার তিনজনকেই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সেইসঙ্গেই তাদের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও টাকাপয়সার খোঁজেও জোর তল্লাশি শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের এক আধিকারিক।
রবিবার দুপুরে খড়্গপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবলপুর সংলগ্ন গোয়ালাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছিল। মাছের আড়তের অর্থ সংগ্রাহক রাজকুমার সিং টাকা আদায় করে বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই পিছন থেকে বাইকে করে এসে তিন দুষ্কৃতী তাঁর হাতে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। রাজকুমার বাবু বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে বন্দুক দেখানো হয়। এরপরই তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। সেইসময়ই দুষ্কৃতীরা শূন্যে দু’রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। দুষ্কৃতীদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল বলে অভিযোগ করেন রাজকুমার বাবু। সেইসঙ্গেই তিনি জানান, তাঁর ব্যাগে টাকাপয়সা সেরকম ছিলনা। এরপরই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে টাউন থানার পুলিশ। সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, শহরের বাইরে একটি হোটেলে খাওয়াদাওয়া করছে তিন সন্দেহভাজন যুবক। তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। এরপরই রাতে তারা খড়্গপুর শহরের পাঁচবেড়িয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনজনকেই পাকড়াও করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে সরফরাজ খান নামে বছর তিরিশের যুবকের বাড়ি পাঁচবেড়িয়া এলাকাতেই। মহম্মদ ইরশাদ এবং মহঃ ইরশাদ খানের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। দুই ইরশাদই কুখ্যাত দুষ্কৃতী বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। সরফরাজকে সঙ্গে নিয়ে খড়্গপুরে তারা ছিনতাই সহ নানা দুষ্কৃতীমূলক কাণ্ড ঘটাতেই হাজির হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তিনজনকেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ঘটনার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আমরা দুষ্কৃতীদের ধরতে পেরেছি। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও আমরা জানতে পেরেছি। সেটি উদ্ধার করা হবে। জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজকুমার বাবু সহ আপামর খড়্গপুর শহরবাসী।








