দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৫ জুলাই: জীবনানন্দের বনলতা সেনে কবি-প্রেমিকের প্রশ্ন ছিল, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে তাকিয়েছিলেন নাটোরের বনলতা সেন। অভিনেত্রী ও সাংসদ জুন মালিয়া অবশ্য প্রশ্নের ঝাঁজ সহ্য করতে না পেরে বেশ কড়া দৃষ্টিতেই তাকালেন এদিন। মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে জেলাশাসকের কার্যালয়ে সাংসদ জুনকে কাছে পেয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, এতদিন পরে এলেন? তৃণমূল থেকে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ জুনের উত্তর, ‘আড়াই পর এসেছি ঠিকই। কিন্তু, আমার সঙ্গে ডিএম স্যার, এসপি ম্যাম ও বিধায়কদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এলাকার মানুষ আমাকে ফোন করেন। কোথাও কোনও সমস্যা হলে আমি জেলাশাসককে জানাই। এলাকার সঙ্গে আমি সবসময়ই যুক্ত আছি।’

thebengalpost.net
বৈঠকে জুন:

ক্যান্সার রোগীদের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার জন্য সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তা পাচ্ছেন? সেই প্রশ্নও ওঠে। জবাবে জুন মালিয়া দাবি করেন, ‘সব ক্যান্সার রোগীই সার্টিফিকেট পাচ্ছেন। আপনাদের কাছে হয়তো ভুল তথ্য রয়েছে।’ সাংসদের স্বাক্ষর করাতে কি সাধারণ মানুষকে কলকাতায় যেতে হচ্ছে? এই প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে একদা মমতা-ঘনিষ্ঠ জুন মালিয়া বলেন, ‘এগুলোতো আপনাদের বলব না! আমি কী করছি বা না করছি। আমার কাছে প্রমাণ আছে, মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন।’ এদিন দুপুরে ‘দিশা’ বৈঠকে যোগ দিতে মেদিনীপুরে এসেছিলেন সাংসদ জুন মালিয়া। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা-সহ জেলার বিধায়করা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই জুন জানিয়ে দেন, কোন রাজনৈতিক প্রশ্ন করা যাবেনা তাঁকে। দীর্ঘদিন পর তাঁর মেদিনীপুরে আসা নিয়ে প্রশ্ন করলে রীতিমত রেগে যান একদা তৃণমূলের এই অভিনেত্রী ও সাংসদ। মেদিনীপুরের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী সুমন মুখোপাধ্যায়, সোমনাথ দাস প্রমুখ বলেন, ‘ভোটের ফল বেরোনোর পর মে ও জুন মাসে সাংসদের দেখা মেলেনি। জুলাই মাসে তিনি এলেন। এতদিন দলীয় কর্মী সহ তাঁর অনুগামীদের বিষয়েও কোন খোঁজখবর নেননি।’ বিজেপির জেলা মুখপাত্র অরূপ দাসের কটাক্ষ, ‘বিজেপি সৌজন্য দেখিয়ে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদের বৈঠকে ডাকছে। এই জুন মালিয়াই ভোটের ফল বেরোনোর আগে ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সব মনে রেখেছি আমরা।’