দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ৫ জুন: রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের দাপটে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার দ্রুত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বাড়তে চলেছে মহকুমার সংখ্যা। দীর্ঘদিনের সুবিশাল খড়্গপুর মহকুমাকে ভেঙে বেলদাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে নতুন মহকুমা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দাঁতন-১, দাঁতন-২, নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ি এবং মোহনপুর ব্লক নিয়ে গঠিত হবে নতুন মহকুমা। এর সদর দপ্তর বা হেড কোয়ার্টার হবে বেলদা। ইতিমধ্যেই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণের নেতৃত্বে সম্প্রতি নতুন মহকুমার জন্য জমি পরিদর্শনও হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, খড়্গপুর মহকুমার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ ছিল। নতুন মহকুমা গঠিত হলে প্রশাসনিক কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই সাধারণ মানুষের পরিষেবা প্রাপ্তিও সহজ হবে।
আজকের খড়্গপুর একদিন ছিল বিশাল হিজলি রাজ্যের অন্তর্গত একটি ছোট্ট গ্রাম। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনামলে হিজলি প্রদেশের অংশ হিসেবে এখানকার বিচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এই মহকুমায় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসও বিদ্যমান। পরবর্তী সময়ে, রেলওয়ের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে খড়্গপুর দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল ও শিল্পনগরীতে পরিণত হয়। সেই সময় থেকেই স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের বিকাশ ঘটে। ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঐতিহাসিক অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা ভাগ হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিভক্ত হয়। সেই সময় থেকেই খড়্গপুর মহকুমা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ প্রশাসনিক একক হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে খড়্গপুর মহকুমার আওতায় রয়েছে খড়্গপুর পৌরসভা সহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক। সুবিশাল এই ভৌগোলিক এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রশাসনকে। জানা গিয়েছে, বেলদা নামে নতুন মহকুমা গঠিত হলে নারায়ণগড় ব্লককে ভেঙে দেওয়া হবে। নারায়ণগড় ও হেমচন্দ্র নামে দু’টি ব্লক তৈরি হবে। এছাড়াও থাকবে কেশিয়াড়ি, দাঁতন- ১ ও ২ এবং মোহনপুর ব্লক। স্থানীয়দের দাবি, খড়্গপুর মহকুমা কার্যালয় থেকে দাঁতন-১ বিডিও অফিসের দূরত্ব প্রায় ৫৪ কিলোমিটার, দাঁতন-২ বিডিও অফিস ৪৬ কিলোমিটার, নারায়ণগড় ৩৭ কিলোমিটার এবং কেশিয়াড়ি প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে। ফলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম—তিনেরই অপচয় হতো। নারায়ণগড়ের নবনির্বাচিত বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, ‘এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবার স্বীকৃতি পেতে চলেছে। নতুন মহকুমা তৈরি হলে কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।’








