দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ আগস্ট: মেদিনীপুর পুর এলাকায় প্রায় এক হাজার বিল্ডিং প্ল্যান অবৈধভাবে অনুমোদনের অভিযোগ। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন মেদিনীপুর শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর মহম্মদ সাইফুল্লাহ (সাইফুল)। ঘটনা ঘিরে শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিলরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে একের পর এক নিয়ম লঙ্ঘন করে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পুর কর্তৃপক্ষ।
সাইফুলের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী SWS-OBPAS পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলেও মেদিনীপুর পুরসভায় সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অফলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিল্ডিং কমিটি-র পূর্বানুমোদন ছাড়াই বহু প্ল্যান ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কাউন্সিলর জানান, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বোর্ড সভায় একসঙ্গে ৪১০টি বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছিল। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। বিভিন্ন জায়গায় লিখিত আপত্তিও জমা দেন। এরপর চলতি বছরের ৯ জুন আরও ৪০৫টি বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি ফের আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, সেই আপত্তির জেরেই বিষয়টি আর এগোয়নি।
অভিযোগকারী কাউন্সিলরের আরও দাবি, যেসব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন পরে বোর্ডে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল, তার অনেকগুলিই আগেই ভুয়ো নকশার ভিত্তিতে নির্মিত হয়ে গিয়েছে। এমনকি সেই সব ভবনের জন্য ভুয়ো কমপ্লিশন সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এরফলে শুধু কাউন্সিলরদের মতামতকেই উপেক্ষা করা হয়নি, প্রতারিত হয়েছেন ফ্ল্যাট ক্রেতা, ব্যাঙ্ক এবং সাধারণ মানুষও। যাঁরা ওই সব বিল্ডিং কিনে ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন, তাঁরাও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের কাউন্সিলর। সাইফুল বলেন, এটি কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লড়াই নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং পুর-প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাকে চুপ করানোর জন্য নানা প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করিনি। বহু সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল না মেলায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেদিন বিল্ডিং প্ল্যানের আবেদন জমা পড়েছে, সেদিনই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বড় কোনও দুর্ঘটনা হলে তার দায় কে নেবে! শহরের এক বাসিন্দার কথায়, দুর্নীতির অভিযোগ এখন নতুন কিছু নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। টাকা ছাড়া আর কাজ হয়না। যদিও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান। তাঁর দাবি, সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান আইন মেনেই অনুমোদন করা হয়েছে। বিজেপির জেলা মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, ‘মহম্মদ সাইফুল ২০২২ সাল থেকে কাউন্সিলর। এতদিন আদালতে যান নি কেন বা বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আনেন নি কেন? সেটা হলে প্রতিবাদী মনে করতাম!’ মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে, আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








