দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৯ জুলাই: মেদিনীপুর শহর স্বাধীনতা সংগ্রামের পীঠস্থান। এই শহর ক্ষুদিরাম বসু, বিমল দাশগুপ্ত, জ্যোতিজীবন ঘোষ, প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য, প্রভাংশু শেখর পাল, অনাথ বন্ধু পাঁজা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, নির্মল জীবন ঘোষ, রামকৃষ্ণ রায়দের বিপ্লবের গল্প শোনায়। শহীদদের স্মৃতিধন্য সেই শহরেই জেলাশাসকের বাংলোর নাম ‘হেস্টিংস হাউস’।ভারতবর্ষের প্রথম (১৭৭৪-১৭৮৫) গভর্নর জেনারেল তথা বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলেই নির্মিত হয়েছিল এই বাংলো। তাঁর নামাঙ্কিত সেই বাংলোর নামই ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন’ করার প্রস্তাব দিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণার হাতে আবেদনপত্র তুলে দেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক।

thebengalpost.net
মেদিনীপুরের সেই হেস্টিংস হাউস:

মেদিনীপুর শহরের ঠিক প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কালেক্টরেট ভবন বা জেলাশাসকের কার্যালয়। আর তার ঠিক উল্টোদিকেই অবস্থিত জেলাশাসকের বাংলো তথা এই ঐতিহাসিক ভবন। এই ভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে মেদিনীপুরবাসী সচেতন। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন এই ভবনটি বছর পাঁচেক আগে (৬ ডিসেম্বর, ২০২১) রাজ্য সরকারের তরফে ‘হেরিটেজ’ ঘোষিত হয়। মেদিনীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বড়লাটের ইতিহাস সংরক্ষণ করেও এই ভবনের নাম স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামে করা হোক। তাঁদের মতে, স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এই শহরের বুকে জেলাশাসকের বাংলোর নাম ‘হেস্টিংস হাউস’ বড্ড বেমানান। তাই, ভবনের ভিতরের কক্ষ, হেস্টিংসের বিচারসভা, তাঁর ইতিহাস সবকিছু যেমনটা আছে থাক। শুধু ভবন বা চত্বরের নাম হোক বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর নামে। শহরবাসীর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই এবার খোদ জেলাশাসকের হাতেই ভবনের নাম পরিবর্তনের আবেদনপত্র বা স্মারকলিপি তুলে দিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘অত্যাচারী ঔপনিবেশিক শাসনের স্মৃতি বহনকারী একটি নাম মেদিনীপুরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীনতার এত বছর পরও এমন একটি নাম আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং বিপ্লবী চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি যে, এই বাংলোর নাম পরিবর্তন করে শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ভবন রাখা হোক।’

thebengalpost.net
বিধায়ক ও জেলাশাসক: