দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ অক্টোবর: শ্রীনু-হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস হওয়ার পর থেকে নিজেকে আড়ালেই রেখেছিলেন। হঠাৎই প্রকাশ্যে এলেন ‘রেল শহর’ খড়্গপুরের একসময়ের ‘ত্রাস’ বাসব রামবাবু। উপলক্ষ্য, নিজের পুজোর বিসর্জন-পর্বে অংশগ্রহণ। শুক্রবার রাতে বিসর্জনের আগে নিজের হাতে দেবীর আরতি করেন তিনি। খড়্গপুর শহরের মথুরাকাটি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মাঠে তাঁকে দেখতে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। অনেকেই রামবাবুর দেবী-বরণের দৃশ্য ‘ক্যামেরাবন্দী’ করেন। সেই ছবি এবং ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। স্বাভাবিকভাবেই এনিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে নেটমাধ্যমে।

thebengalpost.net
সস্ত্রীক বাসব রামবাবু:

মথুরাকাটি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো রামবাবুর পুজো হিসেবেই জেলায় জনপ্রিয়। এবার ছিল পুজোর ৬৪তম বর্ষ। ষাটোর্ধ্ব রামবাবু একবার জানিয়েছিলেন, খুব ছোট থেকেই তিনি এই পুজো দেখে আসছেন। পরে নিজেও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। মথুরাকাটি সর্বজনীন দুর্গাপুজোর এবারের থিম ছিল ‘বৃক্ষই মানবতার মন্দির।’ সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা গুহার মধ্যে দেবীর অধিষ্ঠান তুলে ধরেছিলেন উদ্যোক্তারা। এবার তাঁদের মণ্ডপ জেলার সেরা মণ্ডপের স্বীকৃতিও লাভ করে। শুক্রবার রাতে মথুরকাটি সর্বজনীনের দেবীর বিসর্জনের আগে আরতি ও আতশবাজির মাধ্যমে দেবীকে বরণ করে নেন রামবাবু। একসময়ের ‘রেল মাফিয়া’ বাসব রামবাবুকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুন মাসে শ্রীনু নাইডু হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস হওয়ার পর থেকেই ‘মাফিয়া সাম্রাজ্য’ ছেড়ে নিজেকে ‘গৃহবন্দী’ করে নিয়েছেন রামবাবু। মথুরাকাটি পুজো কমিটির সদস্য অমিয় ভৌমিক শনিবার বলেন, ভাইয়া (রামবাবু) এখন বাড়িতে পুজো-অর্চনা নিয়েই থাকেন। সচরাচর বাড়ি থেকে বেরোন না। তবে, প্রতি বছরই যখন হোক একবার দেবীকে প্রণাম করতে মাঠে আসেন। এবার এসেছিলেন বিসর্জনের আগে। তাঁরা এও জানান, পুজোর সব দায়িত্ব আমরা পালন করলেও, আমাদের মাথায় উপর সবসময়ই ভাইয়া থাকেন!