দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ অক্টোবর: পুজোর মুখে ফের গুলির শব্দে কেঁপে উঠল খড়্গপুর। দিনেদুপুরে স্কুটিতে চেপে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম হল নবম শ্রেণির এক ছাত্র। ঘটনাকে ঘিরে শহরে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ছাত্রটি দুষ্কৃতীদের মূল নিশানা ছিল না। তারা লক্ষ্য করেছিল ওই স্কুটির চালক, বছর বাইশের যুবক সাগর রাওকে। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ খড়্গপুর শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের গিরি ময়দান স্টেশন সংলগ্ন ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগরের স্কুটির পিছনে বসে টিফিন করতে বেরিয়েছিল বছর পনেরোর অক্ষয় ঝা। আচমকাই অন্য একটি স্কুটিতে আসা দুই যুবক তাদের লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি চালায়। একটি গুলি অক্ষয়ের বুকের উপরে, কাঁধের কাছে লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে প্রথমে খড়্গপুর রেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার পর সাগরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে আরও ছ’জনকে আটক করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, মোট সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের সন্ধানে সাতটি দল গঠন করে তল্লাশি চলছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও।
সাগরের বয়ান অনুযায়ী, হামলাকারীদের মাথায় টুপি এবং মুখে মাস্ক ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, দুই গোষ্ঠীর পুরনো বিবাদের জেরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে খড়্গপুরের পুরনো অপরাধ-চক্রের যোগ নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাগরের বাবা প্রসাদ রাও একসময় নিহত ‘রেল মাফিয়া’ শ্রীনু নাইডুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০২২ সালে ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকাতেই গুলিতে মৃত্যু হয় প্রসাদের। এর আগে ২০১৭ সালে খুন হয়েছিলেন শ্রীনু। ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির ‘গুন্ডারাজ বন্ধ’-এর দাবিকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবাশিস ঘোষের দাবি, শহরে অপরাধ কমেনি। পাল্টা বিজেপি কাউন্সিলর অভিষেক আগরওয়ালের দাবি, আগের তুলনায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে।








