দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ জুলাই: সমবায় সমিতির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের মামলায় সবংয়ের চাউলকুড়ি এলাকার তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি জয়দেব পালকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের (সিজেএম) আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারক অতনু মণ্ডল এই সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও দশ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদালত জানিয়েছে।

thebengalpost.net
জয়দেব পাল:

পুলিশ ও আদালত সূত্রে খবর, ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া এই মামলায় বুধবারই জয়দেব পালকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করা হয়। চাউলকুড়ি সুন্দরপুর সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ থাকাকালীন সমিতির ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে জয়দেব পালের বিরুদ্ধে। সরকারি আইনজীবীদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়েছে। মামলার তদন্তে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে সমবায়ের অর্থ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য উদ্ধার হয় বলে দাবি পুলিশের। সেই সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন জয়দেব পাল। সেই কারণে দীর্ঘদিন মামলার বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত ধীরগতিতে চলেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এক সময় সিপিএমের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন জয়দেব পাল। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে চাউলকুড়ি অঞ্চল সভাপতির দায়িত্বও সামলান। রাজনৈতিক মহলে তাঁর উত্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও তৈরি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা অমূল্য মাইতির অভিযোগ, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের আশীর্বাদেই জয়দেব পাল সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছিলেন। যদিও তৃণমূলের একাংশের পাল্টা দাবি, অতীতে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন নেতার সঙ্গেও জয়দেব পালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব ও পৌলমী কলাবেরা জানান, প্রায় ৩০ জন সাক্ষীর বয়ান এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে আত্মসাতের অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। জয়দেব পালের আইনজীবী জানিয়েছেন, জেলা বিচারকের সেশন আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হবে। পরিবারের দাবি, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।