দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ এপ্রিল: দেবীর কোনও বিগ্রহ বা মূর্তি নেই। মাঠের মাঝে একটি উইঢিপি-কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে মন্দির। মন্দিরে কোনও পুরোহিতও নেই। নিজের পুজো নিজের হাতেই করতে হয়। বর্তমানে, কারুকার্য সমন্বিত প্রাচীর দিয়ে মন্দির ঘেরা হলেও, দেবীর ‘স্বপ্নাদেশ’-কে মান্যতা দিয়ে মাথার উপর ছাদ বা আচ্ছাদন করা হয়নি। প্রায় ৪০০ বছরের সুপ্রাচীন পশ্চিম মেদিনীপুরের এই মনসা মন্দিরের মাহাত্ম্য এখন বাংলা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও পৌঁছে গিয়েছে। মাদপুরের মনসা মন্দির হিসেবে জনপ্রিয় হলেও, খড়্গপুর-২ নং ব্লকের মাদপুর-জকপুর স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুর মৌজার অধীন মইশা গ্রাম সংলগ্ন মাঠের মাঝে অবস্থিত এই মন্দির। সপ্তাহের সবদিনই মন্দির খোলা থাকে। তবে, প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার বড় করে পুজো হয়। আর, প্রতি বছর চৈত্র মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার হয় দেবীর বাৎসরিক পুজো ও মহামেলা। সোমবার (৩১ মার্চ) এই মেলার উদ্বোধন হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শিউলি সাহা, শ্রীকান্ত মাহাত, বিধায়ক অজিত মাইতি, সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ প্রমুখ।

thebengalpost.net
মইশার মনসা মা:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন (Advertisement):

এই দেবী অত্যন্ত ‘জাগ্রত’ বলে বিশ্বাস দুই মেদিনীপুর সহ বাংলা-বিহার-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশার লক্ষ লক্ষ ভক্তদের। মঙ্গলবারের বার্ষিক পূজা ও মহামেলার ভিড় যেন দেবীর জাগ্রত সত্ত্বারই পরিচায়ক। দেবী তাঁদের ‘মানত’ পূরণ করায় পাঁঠা, ঢাক-ঢোল সহ লক্ষ লক্ষ ভক্তরা সোমবার রাত থেকেই পৌঁছে গিয়েছেন মন্দির প্রাঙ্গণে। মঙ্গলবার কয়েক হাজার পাঁঠা বলি হবে বলে জানিয়েছেন মইশা গোটগেড়িয়া গ্রামবাসীদের পক্ষে পূজা কমিটির সম্পাদক শ্যামল কুমার বেরা। মেলা চলবে ৫ দিন ধরে। মেলায় রকমারি খাবার-দাবারের সঙ্গেই বসেছে মনোহারি দোকান। এই মেলার মুগের জিলিপি, কাঠিগজা, রঙিন বাতাসা প্রভৃতি বিখ্যাত। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন থাকছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলার বাজেট সবমিলিয়ে প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি বারিন কুমার ভূঁইয়া।

thebengalpost.net
thebengalpost.net

মন্দির প্রতিষ্ঠা ও মা মনসার মাহাত্ম্যের বিবরণ দিতে গিয়ে শ্যামল কুমার বেরা, বারিন কুমার ভূঁইয়া, শক্তিপদ মাইতিরা বলেন, প্রায় ৪০০ বছর আগে এই মইষা গ্রামটি ছিল জমিদার যোগেশ্বর রায়ের তালুক। এলাকাটি জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। বর্তমানে মা মনসার স্থান বলে যেখানে ভক্তরা পুজো করেন, সেখানে ছিল এক বিরাট উইয়ের ঢিপি। ওই ঢিপির নীচে প্রচুর সাপ থাকত। দেবীর ‘স্বপ্নাদেশ’ পেয়ে জমিদার জঙ্গল পরিষ্কার করে ওই অঞ্চলে দেবীর নিয়মিত পুজোর ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে, ওই উইয়ের ঢিপিকে কংক্রিটে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে পদ্মফুল। এই পদ্মফুল দেবী মনসার প্রতীক। এখানে দেবীকে নিজের হাতে পুজো করতে হয়। মন্দিরের পাশেই আছে বাঁধানো পুকুর। অনেকেই মনস্কামনা জানিয়ে বা মানত করে প্রতিষ্ঠিত পুকুর থেকে দন্ডি কেটে মায়ের মন্দিরে পুজো দেন। দেবী তাঁদের মানত পূরণ করেন বলেই সারা বছরই এই মন্দিরে প্রচুর ভক্তসমাগম হয়। আর বার্ষিক মহামেলার ভিড় কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে যায় বলে জানান মন্দির ও পূজা কমিটির সদস্যরা। স্থানীয় বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, “দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সুপ্রসিদ্ধ ও জাগ্রত মন্দির হিসেবে এর সুখ্যাতি রয়েছে। বার্ষিক মহামেলার ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

thebengalpost.net
মূল মন্দিরে দেবীর কোনও বিগ্রহ বা মূর্তি নেই, উই ঢিপিকেই পুজো করা হয়:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন (Advertisement):