দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৬ আগস্ট: এরকমই একটা সুযোগ যেন খুঁজছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি তথা অন্যান্য বিচারপতিদের সামনে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-কে নিয়ে ‘অভিযোগ’ জানানোর জন্য যেন ছটফট করছিলেন। তাই, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের আবেদন সঙ্গে সঙ্গেই গ্রহণ করে, হাইকোর্টের কাছে নিউ সেক্রেটারিয়েটের একটি বহুতল হাইকোর্টের হাতে তুলে দিলেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। আর, সেই অনুষ্ঠানেই মঞ্চে প্রধান বিচারপতি ও আরো দুই সিনিয়র বিচারপতি-কে বসিয়ে রেখে, দর্শকাসনে বসে থাকা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-কে লক্ষ্য করে (নাম না করে) একের পর এক ‘অগ্নিবাণ’ ছুঁড়ে দিলেন মমতা! তাঁর একেকটা কটাক্ষ-বাণ বা মারাত্মক অভিযোগ যেন ঠিকরে বেরোচ্ছিল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-তে সরকারকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়া বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে। কখনও বললেন, “বিচার নিরপেক্ষ হয়, এক পক্ষ হয়না!” বোঝাই যাচ্ছে, সম্প্রতি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে অনুব্রত-কন্যা’কে কেন্দ্র করে, আইনজীবী অরুনাভ ঘোষের নজিরবিহীন আক্রমণ মমতা’কে বেশ অনেকখানি অক্সিজেন পাইয়ে দিয়েছে! অরুনাভ-ও বারবার অভিযোগ করছিলেন, “অপরাধীদেরও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তা উনি করছেন না!” তবে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য একটাই, দুর্নীতি সমূলে উৎপাটিত করা, আর তা করতে গিয়ে কোনোরকম সমঝোতার তিনি পক্ষপাতী নন! আর, তাই বঞ্চিতদের কাছে তিনি যেমন ‘ভগবান’, সরকারপক্ষের কাছে ‘হঠকারী’!
এদিন, মমতা যেভাবে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নিয়ে গর্জে ওঠেন, তা যে পুরোপুরি আইনজীবী অরুনাভ ঘোষের কথার-ই প্রতিধ্বনি তা বলাই বাহুল্য! মমতা একসময় এও হুঙ্কার দেন, “আমিও কিন্তু আইনজীবী। বারের মেম্বার। কিছু মানবাধিকার মামলায় সওয়াল-ও করেছি। যে কোনদিন আবার সওয়াল করতে হাজির হয়ে যেতে পারি!” যেন এক প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেন বিচারপতিদের। একইসঙ্গে, প্রধান বিচারপতির কাছে তাঁর আবেদন, “হাইকোর্টে আরো মহিলা বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো হোক। বহু মামলা বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। সেগুলির যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।” আদতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আসলে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ-দুর্নীতি মামলা নিয়ে আর ‘জলঘোলা’ চাইছেন না; তাই যেন স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন। তবে, এভাবে কোনো বিচারপতিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি বা বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতখানি যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যে। তবে, বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি কোন পক্ষই! আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বোঝা যাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ বা ‘কাতর আবেদন’ কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর আদৌ কোনো প্রভাব ফেললো, নাকি ‘হিতে বিপরীত হয়ে’ বুমেরাং হয়ে ফিরে এলো!
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ অক্টোবর: চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগেই খড়্গপুর পুরসভায় পৌঁছল রাজ্য…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ অক্টোবর: দুষ্কৃতীদের গুলিতে নয়, বন্ধুর বাড়িতে রাখা লাইসেন্সবিহীন…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ অক্টোবর: পুজোর মুখে ফের গুলির শব্দে কেঁপে উঠল…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ সেপ্টেম্বর: শুক্রবার ভোরে খড়্গপুর গ্রামীণের মাদপুরের বাড়ি থেকে…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর: আশা জাগিয়েও এশিয়াডে পদক অধরাই থাকল ভারতীয়…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর: ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের জন্য হাহাকার। কোথাও আবার…