তনুপ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ ফেব্রুয়ারি: সরকারি নির্দেশিকা মেনে এবং সমস্ত কোভিড বিধিকে মান্যতা দিয়ে, সারা রাজ্যের সাথে সাথে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও খুললো স্কুল। তবে, একেবারেই আশাব্যঞ্জক নয় উপস্থিতির হার! গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলিতে উপস্থিতির হার মাত্র ২০-৩০ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলেও তথৈবচ। জেলা শহর মেদিনীপুরের প্রধান শিক্ষকরা জানালেন উপস্থিতি ৫০ শতাংশের কাছাকাছি! আর, ঘাটাল, খড়্গপুর ও মেদিনীপুর সহ মহাকুমার গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে উপস্থিতি সর্বাধিক ৩০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। তবে, সরস্বতী পুজোর আগের দিন বলেই উপস্থিতি এত কম বলে জানিয়েছেন তাঁরা! শিক্ষকরা আশাবাদী সোমবার থেকে উপস্থিতির হার অনেকটাই বাড়বে। তবে, বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করছেন, স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেক কিছুই কেড়ে নিয়েছে করোনা। সেক্ষেত্রে ‘ছাত্রদলের গান’ থেকেও প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে সুর ছন্দ তাল লয়! কবে, পুরনো ছন্দে ফিরবে হারিয়ে যাওয়া সেই ‘ছাত্রধারা’, সেই দুঃশ্চিন্তাতেই আপাতত জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

thebengalpost.net
উপস্থিতির হার খুব কম ঘাটালে :

প্রসঙ্গত, অতিমারী আর লকডাউনের জেরে প্রায় দু’বছর বন্ধ ছিল স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত সহ সবকিছুই। ধীরে ধীরে সব কিছুই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পড়াশোনার পাঠ চালু করতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সরকারি নির্দেশে, মাঝখানে কয়েকবার স্কুল খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও, সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বারবার তাতে ছন্দপতন ঘটেছে! ২০২১ এর নভেম্বরে নবম থেকে দ্বাদশের স্কুল খোলা হলেও, ফের ডিসেম্বর মাসে তা বন্ধ হয়ে যায়! নতুন বছরের একেবারে শুরুতেও (জানুয়ারি মাসেই) তা খোলা হয়নি ওমিক্রণের বাড়বাড়ন্তের কারণে। ফের সরকারি নির্দেশিকা মেনে, আজ, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলেছে স্কুল। অন্যদিকে, আগামীকাল থেকেই সরস্বতী পুজোর ছুটি। শুধুমাত্র অভ্যাসটুকু ফিরিয়ে আনার জন্য বা স্কুল খোলার বার্তা টুকু ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আজকের দিনটিকেই স্কুল খোলার জন্য বেছে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, জেলাজুড়ে যে চিত্র উঠে এলো, তাতে এটুকু পরিষ্কার যে, স্কুলে আসার ‘অভ্যাস’ হারিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা! ঘাটাল থেকে শালবনী, ডেবরা থেকে মেদিনীপুর সর্বত্র উপস্থিতির হার নগণ্য। ঘাটাল মহকুমার ভৈরবপুর রামগতি বিদ্যানিকেতনে যেমন শিক্ষকরা সকাল সকাল চলে আসেন। প্রায় প্রত্যেক শিক্ষকই স্কুলে উপস্থিত হলেও ছাত্র গুটিকয়েক। রামগতি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ জানান, “আমরা বিভিন্নভাবে অভিভাবকদের কাছে খবর পাঠিয়েছি। অনেককে ফোন করে জানানো হয়েছে। জানিনা তা সত্তেও ছাত্র-ছাত্রীরা কেন স্কুলে এলোনা! তবে, সরস্বতী পুজোর আবহ বলেই হয়তো উপস্থিতি এত কম। উপস্থিতির হার না বাড়লে, আমরা সরস্বতী পুজোর পর ফের প্রচার অভিযান শুরু করব।”

thebengalpost.net
উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে বেশি মেদিনীপুর শহরের স্কুলে :

এও উল্লেখ্য যে, আগামী সোমবার অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাক প্রাথমিক-সপ্তম শ্রেণী অবধি ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’ শুরু হবে। তার আগে আজ থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী অবধি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু, শহর থেকে গ্রাম প্রথম দিনের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। এ নিয়ে শালবনী ব্লকের ভাদুতলা বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. অমিতেশ চৌধুরী জানিয়েছেন, “উপস্থিতি খুবই স্বল্প। হয়তো সরস্বতী পুজোর ২ দিন আগে বলেই, এত কম উপস্থিতি। আশা করছি সোমবার থেকে উপস্থিতির হার বাড়বে।” তবে, দীর্ঘদিনের অভ্যাস চলে যাওয়াটাকেও ড. চোধুরী দায়ী করেছেন। জেলা শহর মেদিনীপুরের স্কুলগুলিতে উপস্থিতির হার কিছুটা বেশি। তবে, তা ৫০-৬০ শতাংশের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন মেদিনীপুর টাউন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, “৫০ শতাংশের কাছাকাছি উপস্থিতি। তবে, সমস্ত নিয়ম মেনে স্কুল চলছে। এতেও ছাত্রদের কাছে একটা বার্তা যাবে। আশা করা যায় সোমবার থেকে উপস্থিতির হার ধীরে ধীরে বাড়বে।” উপস্থিতি ৫০ শতাংশের কিছু বেশি মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল, বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ প্রভৃতি স্কুলে। এদিকে, শালবনীর গোদাপিয়াশাল স্কুলেও উপস্থিতির হার খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তবে, প্রথম দিন স্কুলের খোলামেলা পরিবেশে, ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করলেন শিক্ষকরা। শিক্ষক-শিক্ষিকারা উদ্যোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যেভাবেই হোক স্কুলে আসার অভ্যাস ফিরিয়ে আনার জন্য! বাকিটা বলবে সময়, মত বিশেষজ্ঞদের।

thebengalpost.net
প্রকৃতির কোলে পাঠদান গোদাপিয়াশাল স্কুলে :