দীপক কুমার দাস :
দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর ১৯ জানুয়ারি: ঘটা করে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি। পোশাকি নাম, ‘আজদি কা অমৃত মহোৎসব’। অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ (Nationalisation of Bank) হয়েছে সেই ১৯৬৯ সালে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নূন্যতম একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থাকতেই হবে। সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের সুবিধাজনক জায়গায় ব্যবসা করছে। ফলস্বরূপ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিতে হচ্ছে! এই নীতি RBI এর নিয়মেরও পরিপন্থী। কিন্তু, নিয়ম আর কে মানে! হ্যাঁ, কখনও কখনও নিয়ম মানতে বাধ্য হয়, যদি সেই গ্রামে বা গ্রামের আশেপাশে দীপক কুমার দাসের মতো কোনও ‘চায়েওয়ালা’ থাকে। অবশ্য, যে দেশে একজন ‘চায়েওয়ালা’ প্রধানমন্ত্রী হয়, সেই দেশে তো এরকম হাজারো ‘চায়েওয়ালা’ পাওয়া যাবে, যাঁদের অসামান্য প্রতিভায় এক বা একাধিক গ্রাম বিকশিত হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত কুনারপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপক তেমনই এক সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী চায়েওয়ালা! নারায়ণগড় ব্লকের প্রত্যন্ত কুনারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা এই দীপকের হাত ধরেই পাশের দু’টি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম পঞ্চায়েতের (কাশীপুর ও মান্না) ২৬ হাজার মানুষ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বাড়ির পাশে পেতে চলেছেন! আর, তাঁদের বাড়ির পাশে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লড়াইটা দীপক শুরু করেছিলেন বছরখানেক আগে। এজন্য, প্রাথমিকভাবে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI)’র এলডিএম (Lead District Manager)-কে একাধিকবার চিঠি দিয়েও যখন কাজ হয়নি, স্থানীয় একটি ক্লাবের (কুশদা অভিনন্দন ক্লাব) সম্পাদক দীপক তখন সরাসরি চিঠি পাঠালেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে (২০২১ এর ফেব্রুয়ারি মাসে) বা PMO-তে। সঙ্গে জুড়ে দিলেন গ্রামবাসীদের স্বাক্ষর সম্বলিত দাবি। নড়েচড়ে বসে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO)। দপ্তর থেকে এসবিআই-কে চিঠি পাঠানো হয়। তাতেই কাজ হয়! সম্প্রতি, এস বি আই (State Bank of India) এর জেনারেল ম্যানেজার দীপক-কে মেল করেন এই বিষয়ে এবং দ্রুত ওই দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রকল্পে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকছে। কিন্তু, গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষগুলোকে সেই টাকা তুলতে যেতে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার দূরে! এই বিষয়টিই ভাবায় সমাজকর্মী দীপক কুমার দাস-কে। বছর ৪০ এর দীপক তাঁর স্ত্রী-কে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগড়ে একটি চা দোকান চালালেও, একাধারে তিনি স্থানীয় ক্লাবের সম্পাদক, J V SMILEYS Foundation এর জাতীয় সম্পাদক এবং রাজ্য সভাপতি। দীপকের নেশা হল, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা। দীপক তাই তাঁর সহজাত সারল্যের সাথে বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্যের কত প্রকল্প আছে, কত পরিষেবা আছে সাধারণ মানুষ তা জানেইনা! আর জানেনা বলেই ব্যাঙ্ক থেকে বিভিন্ন সংস্থা বা দপ্তর সেই সুযোগ নেয়। কোন জিনিসেই তাদের হেলদোল থাকে না! এই যেমন, এই দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার লাইসেন্স নিয়ে রেখেছে SBI কর্তৃপক্ষ। অথচ, ব্যবসা চালাচ্ছে ২০ কিলোমিটার দূরে বেলদা থেকে। এ নিয়েই সাধারণ মানুষ যখন বারবার নাজেহাল হচ্ছে, চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিই। ব্যাঙ্কের LDM-কে চিঠি লিখেও যখন কাজ হয়নি, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি লিখেছিলাম। তারপরই, এস বি আই হেড অফিস থেকে আমাকে মেইল করে জানানো হয়েছে, এই কোভিড পরিস্থিতিতে এখনই আমরা ব্রাঞ্চ করতে পারবোনা, তবে যতগুলি সিএসপি (CSP- Customer Service Point) লাগবে আমরা তা করে দেব।” তবে, এতেও খুশি হননি দীপক। জানুয়ারি মাসের (২০২২) ১৫ তারিখে আবার তিনি আবার চিঠি পাঠিয়েছেন, অর্থ দফতরের উপদেষ্টা বিভাগে। জানতে চেয়েছেন, “ব্যাঙ্ক হবেনা কেন? ব্যাঙ্ক তৈরি করতে কত দেরি হবে?” এও উল্লেখ করেছেন, “কতগুলি সিএসপি দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিক এসবিআই।” দীপকের এই উদ্যোগ যে সাফল্য পাবেই, তা নিয়ে সন্দেহ নেই! তবে, তা যাতে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই শুরু হয় সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দীপক। দীপকের জন্য গর্ব অনুভব করেন কুশদা অভিনন্দন ক্লাবের সভাপতি জয়দীপ ঘোড়ই থেকে শুরু করে আপামর এলাকাবাসী। আর, ৭ নং কাশীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রবীণ নাগরিক গয়া ভোক্তা বলেন, “টাকা তুলতে হয় ৭ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগড়ে যেতে হয়, নাহলে ২০ কিলোমিটার দূরে বেলদায়। যদি গ্রামেই ব্যাঙ্কের পরিষেবা পাই, খুব ভালো হয়।” আপাতত চায়েওয়ালা দীপকের এই আন্তরিক চেষ্টাকে ঘিরেই আশায় বুক বেঁধেছেন মান্না ও কাশীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬ হাজার বাসিন্দা! (Article Credit: Shankar Rai)
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ এপ্রিল: "আমি যদি অযোগ্য হই...যান বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ এপ্রিল: সুপ্রিম রায়ে রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ৩ এপ্রিল: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ এপ্রিল: জঙ্গলমহল এলাকায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আদিবাসীদের শিকার…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ এপ্রিল: দেবীর কোনও বিগ্রহ বা মূর্তি নেই। মাঠের…
পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ এপ্রিল: বহু প্রতীক্ষিত "এই সময় দীপ্তি ২০২৫" আবার ফিরে এসেছে। এবারের আয়োজন…