দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ ফেব্রুয়ারি: সাত সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বাজারে, ওভারব্রিজের নিচে কাঠের বেঞ্চে বসে চা খাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু! আশেপাশে নিরাপত্তা রক্ষীরাও নেই। মাটির ভাঁড়ে একমনে চায়ে চুমুক দিয়ে চলেছেন দেশের ১৫-তম রাষ্ট্রপতি। এও কি সম্ভব? নিজেদের চোখকেই যেন বিশ্বাস হচ্ছেনা! অনেকেই ভাবলেন, ঘুম কেটেছো তো ঠিকঠাক? অনেকে আবার দু’তিনবার করে নিজেদের চোখ কচলে নিলেন। সাহস করে আরও কাছে পৌঁছনোর পর অবশ্য একে একে ভুল ভাঙতে শুরু করে। কিন্তু, এ যে হুবহু এক! ঠিক যেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, পরণে গোলাপী পাড়, হালকা সবুজ রঙের তাঁতের শাড়ি। বুধবার সকালে ক্রমেই ভিড় বাড়তে থাকে ওভারব্রিজের নিচে, ওই চায়ের দোকানে।

thebengalpost.net
ঠিক যেন রাষ্ট্রপতি:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন (Advertisement):

উৎসুক জনতা এরপর ভদ্রমহিলার সাথে কথা বলা শুরু করেন। তাঁরা জানতে পারেন, বছর ৬৫-র ওই মহিলার নাম গীতা শাসমল। ডেবরা ব্লকেরই শ্যামসুন্দরপুর এলাকায় বাড়ি। বাড়িতে ছেলে, বৌমা আছে। ছেলে একজন বাসকর্মী। বাপের বাড়ি যাবেন বলে বুধবার সকালে তিনি বাস ধরার জন্যই এসেছেন। বাস আসার ফাঁকে, সকাল সকাল এক কাপ চা খাওয়ার জন্য কাঠের বেঞ্চে বসেছিলেন। আর সেই সময়ই তাঁকে ঘিরে ধরেন উৎসুক জনতা। কিছুটা অবাকই হন গ্রামের এই নিতান্ত সহজসরল মহিলা।

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন (Advertisement):

পরে মোবাইল বের করে গীতা দেবীকে দেখানো হয়, তাঁকে দেখতে হুবহু দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো! হেসে ফেলেন গীতা। হাসতে হাসতেই বলেন, “আমি তো জানিনা আমাকে কেমন দেখতে। দেশের রাষ্ট্রপতির কথা শুনেছিলাম। তাঁর ছবি দেখিনি কোনদিন। আপনারাই প্রথম দেখালেন। তবে, আমি একজন গ্রামের সাধারণ মহিলা। আপনারা যা ভাবছেন ভাবুন!” ডেবরাবাসী অবশ্য তাতেই খুশি। একপ্রকার জোর করেই গীতা দেবীকে তাঁরা দই-মিষ্টি খাইয়ে তবে ছাড়লেন। আর নিজেরা এই ভেবেই সান্ত্বনা নিলেন, “রাষ্ট্রপতি না আসুন, তাঁর মতো দেখতে কেউ তো আছে আমাদের এলাকায়। অন্তত, দুধের স্বাদ তো ঘোলে হলেও মিটল!”

thebengalpost.net
ডেবরা বাজারে বসে: